বাংলাদেশের সেরা কণ্ঠশিল্পীএন্ড্রোকিশোর আর নেই।

বাংলাদেশের সেরা কণ্ঠশিল্পীএন্ড্রোকিশোর আর নেই।


কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রোকিশোরের মৃত্যুর সংবাদ
ছবি-এন্ড্রোকিশোর


মৃত্যুকালে তার বয়স  হয়েছিলো ৬৪ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসারে ভূগছিলেন। এন্ড্রু কিশোরের বড় বোনের স্বামী ডা. প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।



সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে রাজশাহীর একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এন্ড্রু কিশোর। মারা যাওয়ার আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়।
প্রায় ১ বছর ধরে ব্লাড ক্যান্সারে ভুগছিলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। ৯ মাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে ১১ জুন দেশে ফিরেন তিনি।


 সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ছয়টি ধাপে তাকে মোট ২৪টি কেমোথেরাপি দেয়া হয়। ক্যান্সার ছাড়াও এন্ড্রু কিশোর কিডনি ও হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিয়ে গত ২০ জুন রাজশাহীতে বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের নগরীর মহিষবাথান এলাকার বাসায় ওঠেন এন্ড্রু কিশোর। বোন ও দুলাভাই দুজনই চিকিৎসক হওয়ায় তাদের তত্ত্বাবধানেই চিকিৎসা ছিলেন এন্ড্রু কিশোর।




সঙ্গীত জীবনের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এন্ড্রু কিশোর আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন। তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমার ছুঁয়াতে খুঁজে পেয়েছি, সবাইতো ভালোবাসা চায়, বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে, তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন, ভালো আছি ভালো থেকো, তুমি মোর জীবনের ভাবনা, চোখ যে মনের কথা বলে, পড়েনা চোখের পলক ইত্যাদি গান।



এন্ড্রু ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামে পরিচিত। তার চিরসবুজ কণ্ঠ অসংখ্য জনপ্রিয় রোমান্টিক গান উপহার দিয়েছে।
এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রে।


 সেখানে তিনি ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তাঁর কেউ’ গানে কণ্ঠ দেন। তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ চলচ্চিত্রের ‘ধুম ধাড়াক্কা’। তবে এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রতিজ্ঞা’ চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গাওয়া গান প্রথম জনপ্রিয়তা লাভ করে।



সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙের ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, সবাই তো ভালোবাসা চায় প্রভৃতি।



দেশ-বিদেশের সুনামের পাশাপাশি তিনি সম্মানও পেয়েছেন। বাংলা চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য তিনি আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন।


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন